এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যের টেলিকম মার্কেটে হুয়াওয়ে একটি অন্যতম নাম। গবেষণার ক্ষেত্র কিংবা দাতব্য অনুদান- প্রায়ই বড় মানের বিনিয়োগ করে থাকে এই প্রতিষ্ঠানটি।
চীনের এই বিশাল প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্রিটিশ কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান আগ্রহী। তাহলে কী এমন ঘটলো যে কারণে হঠাৎ করেই এই কোম্পানিগুলো আর হুয়াওয়ের টাকা নিতে চাচ্ছে না? এক কথায়, কিছুই না। শুধুমাত্র পরিবর্তন হয়েছে রাজনৈতিক পটভূমি।
চীনা কোম্পানি হওয়াতে যদি আপনার নাক কুচকে যায় তাহলে জেনে রাখুন পরিস্থিতি ১০ বছর আগে যা ছিল এখনো সেটাই আছে। কোনো পরিবর্তনই হয়নি। অনেক বছর আগে থেকেই এটা সবাই জানেন যে হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই পিপলস্ লিবারেশন আর্মি-এর একজন অফিসার ছিলেন। তাহলে কি শংকাটা এরকম যে, হুয়াওয়ে তাদের যন্ত্রপাতিগুলোতে ব্যাকডোর তৈরি করে রাখে যা চীনা সরকারের গুপ্তচরদের পশ্চিমা দেশগুলোর টেলিকম নেটওয়ার্কগুলোতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়?
না, যেটা পরিবর্তন হয়েছে সেটা হলো চীনের কোম্পানিগুলো বিশেষত হুয়াওয়ের উপরে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে আমি সহ একদল সাংবাদিকদের যুক্তরাজ্যের টেলিকম নির্বাহী কর্মকর্তা জিজ্ঞাসা করেন একথার প্রমাণ কী!
আমরা আমাদের মাথা চুলকাতে থাকলাম কিন্তু কোনো উত্তর খুঁজে পেলাম না। সেই সময়ে হুয়াওয়ের যে সব যন্ত্রপাতি সম্বন্ধে সমালোচনা করা হয়েছিল সেগুলো জিসিএইচকিউ একটি ইউনিট পরীক্ষা করে দেখছিলেন যে আসলেই নিম্নমানের প্রকৌশলের কারণে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনরকম হুমকি আছে কি না! কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সেগুলোতে ব্যকডোর খুঁজে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে টেলিকম নির্বাহী বলেছিলেন, “এগুলোর উপরে এবছর আমরা ১০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করছি!”
মূলত, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চীনের অগ্রসরমান ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, পশ্চিমা দেশগুলোর বুদ্ধিগত কাজের উপর তাদের মনোভাব ও চীনা সরকারের তার দেশীয় কোম্পানিগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণের উপর ভিত্তি করে এই দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে।
আরও একটি বিষয় রয়েছে- ৫জি আসার পর আমাদের শিল্প অবকাঠামোতে অত্যাধিক মাত্রায় পরিবর্তন আসবে। যার ফলে নিরপত্তাজনিত সমস্যা নিরসনে নতুন নতুন সুযোগেরও সৃষ্টি হবে।
এক কথায় বলতে হলে, যুক্তরাষ্ট্রের একটাই মূল লক্ষ্য- ৫জি মার্কেটের এই অপার সুযোগ থেকে হুয়াওয়েকে বিতারিত করা।
লক্ষণীয় যে, এই বিষয়ে অ্যামেরিকানরা তাদের ফাইভ আই পার্টনারদের উপরেও চাপ সৃষ্টি করেছে। এবং সেটা কাজেও আসছে। অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে তাদের দেশে চীনা কোম্পানিগুলোকে বন্ধ করে দিচ্ছে আর নিউজিল্যান্ডও একই পথে হাঁটছে।
যুক্তরাজ্যের মোবাইল অপারেটরগুলো কিছুটা ভয়ে ভয়ে সরকারের দিকনির্দেশনা পাবার অপেক্ষায় আছেন, কারণ তারা ৫জি নেটওয়ার্ক বাজারে আনার জন্য প্রায় প্রস্তুত। এছাড়া সব অপারেটরগুলো হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতি তাদের বেস-ষ্টেশনগুলোতে ব্যবহার করতে চাইলেও তাদের মূল নেটওয়ার্কে হুয়াওয়েকে আর চাচ্ছে না।
হুয়াওয়ে সম্পর্কে আমাকে একটি অপারেটর বলেছে “তারা খুবই মানসম্পন্ন”। “অন্যান্যদের থেকে নাহলেও চার-পাঁচ মাস এগিয়ে”। নিরাপত্তা ও ব্যবসার ক্ষেত্রে চীনাদের বিষয়ে ব্রিটিশ ও অ্যামেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা পুশ-মি-পুল-ইউ টাইপের। বর্তমানে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উপরের দিকে উঠছে। তার মানে, ধীরে ধীরে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে-এর সাথে ব্যবসা করা কমিয়ে দিবে।
The post হুয়াওয়ে – কিছু কি পরিবর্তন হয়েছে? appeared first on Technology Bangla News - Photos, Videos, Reviews, Downloads and Update:.
অরিজিনাল পোস্ট
পোস্টটি Techzoom থেকে নেওয়া