ভারতে বিপজ্জনক ‘ব্লু হোয়েল’ গেমের লিঙ্ক সরানোর নির্দেশ

গুগল, ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, মাইক্রোসফ্ট এবং ইয়াহু থেকে অবিলম্বে ‘ব্লু হোয়েল’- এর মতো বিপজ্জনক ‘অনলাইন গেম’-এর লিঙ্ক সরানোর নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রাণলায় থেকে এমন নির্দেশনা জারি হয়।

সম্প্রতি অনলাইন গেম ‘ব্লু হোয়েল’ এর নেশায় মেতে বিশ্ব জুড়ে একাধিক দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। ভারত তার ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ও পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের একাধিক ঘটনার খবর শোনা যায়। আর এত ‘ব্লু হোয়েল’ই জড়িত থাকার নির্দিষ্ট খবর রয়েছে দেশটির গোয়েন্দাদের নিকট।

নির্দেশনায় ওই পাঁচ মাধ্যমকে এক চিঠিতে জানানো হয়, এই গেম খেলতে গিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছে অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা। এমনকী, তাদের অনেকে আত্মহত্যাও করছে বলে শোনা যাচ্ছে। তাই নির্দেশ, ‘অবিলম্বে ‘ব্লু হোয়েল’ বা এ ধরনের বিপজ্জনক গেমসের লিঙ্ক সরিয়ে ফেলতে হবে।’

মন্ত্রাণলায়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের নির্দেশের পরই ওই পাঁচ মাধ্যমকে ‘ব্লু হোয়েল’ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ব্লু হোয়েল কি?
অনলাইন গেম ব্লু হোয়েল। ৫০টি ধাপ। যার সর্ব শেষ পরিণতি মৃত্যু। এমনই একটা অনলাইন গেম চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল ১৪ বছরের এক পড়ুয়া! প্রাথমিক তদন্তের পর এমনই অনুমান পুলিশের।

• এটি একটি অনলাইন গেম। এই গেমে প্রতিযোগীদের মোট ৫০টি আত্মনির্যাতনমূলক লেভেল কমপ্লিট করতে হয়। সেই সমস্ত লেভেল ও তার টাস্কগুলি খুবই ভয়ংকর। গেম যত এগোতে থাকবে টাস্কগুলি অনেক বেশি ভয়ংকর হতে থাকবে। কিন্তু প্রথম দিকের ধাপগুলি অপেক্ষাকৃত কম ভয়ংকর হওয়ায় টাস্কগুলি বেশ মজার। আর সেই কারণেই এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। পরে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বেরোতে পারে না।

• কেমন সেই আত্মনির্যাতনমূলক টাস্ক? কোনো লেভেলে হয়তো নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের শরীরে একাধিক সূচ বিঁধতে। কোনো লেভেলে নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের হাতকে রক্তাক্ত করতে। তবে গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা।

• এই টাস্কগুলিতে অংশগ্রহণের পর সেই ছবি পোস্ট করতে হয় এর গেমিং পেজে। প্রতিযোগিতার একেবারে শেষ পর্যায়ে, অর্থাৎ ৫০তম টাস্কের শর্তই হলো আত্মহনন।

• এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনো ভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।

শুরুর কথা
এই খেলার জন্ম রাশিয়ায়। জন্মদাতা ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় প্রথম সূত্রপাত। ২০১৫ সালে প্রথম আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। বুদেকিনের দাবি, সমাজ সাফাই করতেই এই গেম ছড়িয়েছে সে। ১৬জন কিশোরীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ ওঠে ফিলিপের বিরুদ্ধে। অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের খোঁজে ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে #ব্লুহোয়েলচ্যালেঞ্জ, #আইঅ্যামহোয়েল লিখে পোস্ট করলে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেয়। মাঝপথে কেউ খেলা ছাড়তে চাইলে, তাকে ব্ল্যাকমেল করে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। প্রিয়জনদের ক্ষতি করার হুমকি দেয় তারা।

বছর চারেক আগে রাশিয়ায় ‘ব্লু হোয়েল’ গেমটি শুরু হয়। শুরু থেকেই কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অনলাইনে গিয়ে এই খেলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রথমে অনুমতি চাইতে হয়। এর পর সেই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে আবেদনকারীর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পঞ্চাশ দিনের মধ্যে ব্লু হোয়েল-এর বিভিন্ন লেভেল পেরতে হয়।

প্রথম দিকের লেভেলগুলি সহজ থাকলেও খেলা যত এগোতে থাকে ততই তা বিপজ্জনক হতে থাকে। আত্মনির্যাতন করা ছাড়াও একের পর এক টাস্ক পেরতে হয় প্রতিযোগীকে। শেষ ধাপে গিয়ে নি‌র্দেশ আসে আত্মহত্যার। প্রতিটি লেভেলের টাস্ক না শেষ করলে প্রতিযোগীর পরিবারের ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। আগে থেকেই বিভিন্ন তথ্যাদি হাতে থাকায় প্রতিযোগীও তা পালন করতে বাধ্য হয়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


অরিজিনাল পোস্ট
পোস্টটি Techzoom থেকে নেওয়া
Thank you for reading this article on ভারতে বিপজ্জনক ‘ব্লু হোয়েল’ গেমের লিঙ্ক সরানোর নির্দেশ on the Apps For Life bd blog if you want to spread this article please include links as Source, and if this article useful please bookmark this page in your web browser, with How to press Ctrl + D on your keyboard button.

Latest articles: