অবৈধ ও চোরাই পথে মোবাইল ফোন আমদানি বন্ধ করে বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ‘এনওসি অটোমেশন অ্যান্ড আইএমইআই ডাটাবেজ’ (এনএআইডি) চালু করা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) আর্থিক সহায়তায় এনএআইডি চালু করা হয়েছে।
বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন থেকে একটি শর্টকোডে এসএমএস করেই গ্রাহক জানতে পারবেন তিনি যে ফোনটি কিনতে যাচ্ছেন সেটি আসল না নকল।
সাধারণত মোবাইল ফোন আমদানির জন্য বিটিআরসির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। বিটিআরসিতে একটি নমুনাও দিতে হয় আমদানিকারকদের। কিন্তু রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নামে-বেনামে বিভিন্ন অসাধু মহল হ্যান্ডসেট নিয়ে আসে অবৈধ পথে। এই পথ বন্ধ করতে মোবাইল ফোন আমদানিকারক ও এই শিল্পের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছিলো।
এজন্য একটি তথ্য-ভাণ্ডার তৈরির করার দাবি জানিয়ে উদ্যোক্তারা বলছেন, বিটিআরসির তথ্য-ভাণ্ডারের বাইরে থাকা হ্যান্ডসেটগুলো অবৈধ বলে বিবেচিত হবে এবং সেগুলো সহজেই বন্ধ করা যাবে।
ডাক, টেযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার মঙ্গলবার বিটিআরসিতে আইএমইএ ডাটাবেইজ উদ্বোধন করবেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটি শর্টকোর্ডও চালুর ঘোষণা দেবেন।
বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১৬০০২’ শর্টকোডে এসএমএস করে পছন্দের হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর দিলে জানা যাবে সেটি আসল বা বৈধ কিনা।
মোবাইল আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ইমর্পোর্টাস অ্যাসোসয়িশেন (বিএমপিআইএ) গত নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার মোবাইল ফোনের বাজার। এর আনুমানিক ৩০ শতাংশ অবৈধ হ্যান্ডসেটের দখলে। অবৈধ পণ্যের অনেকাংশই পুরনো ফোন ‘রিফারবিশ’ এর মাধ্যমে দেশে আসছে।
এনএআইডির সুবিধা
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে সকল হ্যান্ডসেটের আইএমইএ (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুপমেন্ট আইডেন্টিটি) ডাটাবেজ তৈরি ও সংরক্ষণ করা হবে।
মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের আমদানির অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে অনলাইনে আবেদন এবং অনলাইনেই অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে পারবে। জনসাধারণ মোবাইল ফোন কেনার আগে ডাটাবেজ হতে তথ্য যাচাই করতে পারবে, ফলে অবৈধ আমদানি করা সেটের তথ্য পাওয়া যাবে না। এতে মানুষ তা ক্রয় করতে নিরুৎসাহিত হবে, যার প্রেক্ষিতে অবৈধ আমদানি হ্রাস পাবে। অবৈধ আমদানি হ্রাস করার মাধ্যমে এ খাত থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।
এছাড়া দেশের মোবাইল ফোন খাতের সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে, যা বিশ্লেষণ করে গ্রাহকের ধরন, ফিচার ফোন হতে স্মার্টফোন গ্রহণের প্রবণতা, কী পরিমাণ হ্যান্ডসেট প্রতি বছর দেশের বাজারে বিক্রি হয়, বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের সেট সংখ্যা ইত্যাদি তথ্য যাচাই বাছাই করে টেলিকম সেক্টরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সিস্টেমটিতে কাস্টম হাউজের জন্য আলাদা মডিউল এবং একটি ডিভাইস থাকবে যাতে কমিশন প্রদত্ত অনাপত্তিপত্রতে উল্লেখিত আইএমইআই নম্বর যাচাই করে শুল্কায়ন করতে পারবে। ফলে ভুল আইএমইআই নম্বরের মোবাইল ফোন প্রবেশ করতে পারবে না।
ভবিষ্যতে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) স্থাপন করা হলে এই সিস্টেমটি তার ডাটাবেজ হিসাবে কাজ করবে। তখন সিস্টেমটির ডাটাবেজ ব্যবহার করে মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই রোধসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শুধুমাত্র ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি হতে বৈধভাবে আমদানিকৃত বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের বেশির ভাগ আইএমইআই নম্বর ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য যে কোন ধরনের আইএমইআই নম্বর বিটিআরসি’র ডাটাবেইজে আপাতত পাওয়া যাবে না।
তবে এখন থেকে যত হ্যান্ডসেট বৈধভাবে আমদানি বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে তা যথাযথ যাচাই বাছাই করে বিটিআরসি’র ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করা হবে।
বিটিআরসি’র বিদ্যমান সার্ভার কক্ষেই সিস্টেমটির ডাটাবেইজ ও সার্ভার স্থাপন করা হয়েছে। এনএআইডি সেবা পেতে কোন ধরনের রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে না।
The post একটি এসএমএসেই জানা যাবে আপনার ফোনটি আসল নাকি নকল appeared first on Technology Bangla News - Photos, Videos, Reviews, Downloads and Update:.
অরিজিনাল পোস্ট
পোস্টটি Techzoom থেকে নেওয়া