হতাশার কারণ হচ্ছে ফেসবুক!

দিনের অনেকটা সময় আমাদের চলে যায় ফেসবুকে। অনেকেই টের পাচ্ছেন কাজের ক্ষতি হচ্ছে এতে। কিন্তু কাজের পাশাপাশি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হচ্ছে। এক গবেষণার বরাত দিয়ে টাইম অব ইন্ডিয়ায় বলা হয়, ফেসবুকে অতিরিক্ত সময় কাটালে আপনি কিছু ক্ষতির শিকার হবেন।

গবেষণার প্রধান লেখক ব্রায়ান প্রাইম্যাক বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উদ্দেশ্য হল মানুষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা। তবে আশ্চর্যজনক এবং অবাক করার বিষয় হল, আমাদের তদন্ত বা পর্যবেক্ষণ এই মাধ্যমেগুলো মানুষের একাকিত্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছে।’

‘আমেরিকান জার্নাল অফ হেল্থ প্রোমোশন’ জার্নালের এই গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিজেকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করা একাকিত্বেরই অপর নাম। আর এরসঙ্গে স্বাস্থ্যহানিও জড়িয়ে আছে। যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হতাশাগ্রস্ততা।’

এই গবেষণার জন্য প্রাইম্যাক ও তার দল ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি ১১৭৮ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীকে পর্যবেক্ষণ করেন। দেখা হয় কী মাত্রায় তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় এবং এর কারণে তারা নিজেকে কতটা একা অনুভব করেন।

নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মাত্রা প্রতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণকারীদের একাকিত্বের মাত্রা বেড়েছে ১৩ শতাংশ। তবে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার মাত্রা বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের একাকিত্বের তেমন উন্নতি হয়েছে বলে জানায়নি।

ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টোনের সামাজিক মনোবিজ্ঞানের পিএইচডি গবেষক মাই-লি স্টার্স এ বিষয়ে দুটি গবেষণা করেছেন। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন তিনি। যেটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব সোশ্যাল অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে।

নিজের গবেষণা সম্পর্কে স্টার্স বলেন, ‘অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে যাঁরা অতিরিক্ত সময় কাটান, তাঁরা ধীরে ধীরে অন্যদের জীবনের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে পড়েন। বিশেষ করে যারা জীবনে সাফল্য পেয়েছেন। অন্যের সাফল্য দেখতে দেখতে একসময় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েন নিজেদের জীবন নিয়ে।’

স্টার্স আরো জানান, ‘ফেসবুক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব বিস্তার করে। ব্যাপারটা এমন না যে, ফেসবুক মানুষকে হতাশ করে তোলে। এটা মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনা থেকে তৈরি হয়।’

প্রথম গবেষণায় স্টার্স দেখেছেন, ফেসবুকে অতিরিক্ত সময় কাটালে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। আর এই হতাশাবোধ তৈরি হয় বেশি সময় কাটানোর মধ্যে দিয়ে।

স্টার্স বলেন, ‘ফেসবুকে আমরা অন্যদের সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য পাই, যেটা কারো সাথে যোগাযোগ না রাখলে পাওয়া সম্ভব হতো না। পরিচিত সবার খবর পেতে পেতে আপনার ভেতরে এক ধরনের তুলনা চলে আসবে। অন্যদের সামাজিক অবস্থানের সাথে নিজের সামাজিক অবস্থানের। বাকিদের ছবি এবং পোস্ট দেখে আমাদের মনে হয় সবাই সুখে আছে। তখন নিজেদের জীবনের অপ্রাপ্তিগুলো আরো প্রকট হয়ে ওঠে। কিন্তু আমরা চিন্তা করি না যে ফেসবুকে মানুষ সব সময় সুসংবাদই বেশি জানায়। সবার জীবনেই সমস্যা এবং সাফল্য আছে। সমস্যা বা ব্যর্থতার কথা কেউ সবাইকে ঘটা করে জানাতে চায় না। তাই দুঃখের খবর আমরা ফেসবুকে তেমন একটা দেখতে পাই না।’

The post হতাশার কারণ হচ্ছে ফেসবুক! appeared first on Technology Bangla News - Photos, Videos, Reviews, Downloads and Update:.


অরিজিনাল পোস্ট
পোস্টটি Techzoom থেকে নেওয়া
Thank you for reading this article on হতাশার কারণ হচ্ছে ফেসবুক! on the Apps For Life bd blog if you want to spread this article please include links as Source, and if this article useful please bookmark this page in your web browser, with How to press Ctrl + D on your keyboard button.

Latest articles: