নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘আমি মনে করি ইন্টারনেট মানেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। ইন্টারনেট ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টারনেট এখন মানুষের মৌলিক অধিকার। এই পঞ্চম মৌলিক অধিকারটি সংবিধানে নিবন্ধিত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। গ্রামে ও শহরের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে খরচের কোন পার্থক্য থাকবে না।’
রাজধানীর গুলশান ক্লাবে সম্প্রতি মন্ত্রীত্ব গ্রহণ উপলক্ষে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) কর্তৃক আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএসপিএবি’র সভাপতি আমিনুল হাকিম। বক্তব্যের শুরুতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করায় আইএসপিএবিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মন্ত্রী।
সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল হাকিম কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে এই প্রস্তাবগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবো।’
এর আগে সভাপতি আমিনুল হাকিম বক্তব্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মন্ত্রীর কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। ৬টি দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, এনটিটিএন চার্জের উচ্চ ও নিম্নসীমা নির্ধারণ, ট্রিপল-প্লে ব্রডব্যান্ড সার্ভিসের অনুমতি, আইপি-টেলিফোন ও মোবাইল অপারেটরদের সমন্বয়, পারস্পরিক অ্যাকটিভ শেয়ারিংয়ের অনুমতি, ইন্টারনেট সেবার অতিরিক্ত ধাপসমূহের বিলুপ্তি ও লাইসেন্সবিহীন আইএসপি নির্মূল করা।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রধান মন্ত্রী নীতিমালা সংক্রান্ত সকল বিষয়ে ট্রেডবডিসহ একটি কমিটি করে সচিব মাহোদয়কে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিদেশের প্রত্যেকটি সংস্থায় এখন থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি থাকবে। ডট বাংলা এবং ডটবিডির রেজিস্ট্রেশন ফি সমানভাবে নির্ধারণ করার নির্দেশ দেন শব্দগত পার্থক্যে কোন ফির প্রার্থক্য হবে না। যে কোন জায়গা থেকে যেন মোবাইলে সবাই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।’ দেশের সবাই যেন নিরাপদে ইন্টারনেট ও ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেন এ জন্য ইন্টারনেট তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের সহায়তা প্রদান করার কথাও বলেন তিনি।
মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন আইএপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক এমাদাদুল হক। তিনি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে বলেন, ‘আপনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্প্রসারণের অগ্রগতি আরো ত্বরান্বিত হবে।’
মূল বক্তব্যে আইএসপিএবি’র সভাপতি আমিনুল হাকিম মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার গৃহীত প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এ খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী এবং গ্রাহকদের সত্যিকার চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে। আপনার কর্মপরিকল্পনারয় স্বল্প খরচে দেশব্যাপী ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেয়া; দেশীয় সফটওয়্যার বাজারকে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের রাহুমুক্ত করা এবং ডিজিটাল মিডিয়ায় বাংলা কন্টেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ভুমিসহ সরকারি সমস্ত সেবার ডিজিটালাইজেশনের যে তিনটি অগ্রাধিকার আপনি নির্ধারণ করেছেন তা মূলত আমাদের সবার সামগ্রিক আকাঙ্ক্ষার যোগফল।’
আইএপিএবি-সভাপতি মন্ত্রীর ঘোষিত প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে এইএসপিএবি’র পক্ষ থেকে পদ্ধতিগত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কিছু সমস্যা এবং এ বিষয়ে কতিপয় সংস্কারেরর প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
আই্সপিএবি’র এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্যগণ, সাধারণ সদস্যবৃন্দ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যন্য সংগঠনের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের বক্তব্যের পর বক্তব্য দেন আইএসপিএবি’র সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান মঞ্জু, বর্তমান কমিটির কোষাধ্যক্য সুব্রত সরকার শুভ্র, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুদ্দীন আহমেদ, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের পরিচালক মুহমাম্দ আরিফ, কামাল হোসাইন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে সিকোয়াব, বেসিস, বাংলাদেশ কম্পিটার সমিতি, বাক্কো এবং ই-ক্যাব এর প্রতিনিধি বৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।
টেকজুমটিভি/ এমআইজেে/এসএ
অরিজিনাল পোস্ট
পোস্টটি Techzoom থেকে নেওয়া